তখন বই-য়ের ব্যাগের বোঝায় শিরদাঁড়া নুয়ে যেত না। হুড়োহুড়ি, দাপাদাপি আর দাদুর দোকানের টিকটিকি লজেন্স, ২০ পয়সার লটারী, দাঁতের লড়াই খাওয়া চলত বেহিসাব!
ক্লাস ওয়ান-ফোর কোন বেঞ্চের ব্যবস্থা ছিল না। সবাই মেঝেতে বসতাম। তাড়াতাড়ি স্কুলে গিয়ে রোজ বসার চট নিয়ে টানাটানি, কাড়াকাড়ি চলত। অনেকে বাড়ি থেকে বসার আসন আনত। সেই আসনে যে সে-ই বসতে পারবে এমন কোন গ্যারান্টি থাকত না।
স্কুলের বাড়িটা যখন নতুন করে তৈরি হল কি আনন্দ! সিঁড়ির রেলিং এ বসে গড়ান খেতে খেতে সোজা নেমে পড়ার মজাই ছিল আলাদা। আমাদের হেড স্যার গোবিন্দ ভাণ্ডারী বাবু প্রার্থনার পর ছড়ি নিয়ে রাউন্ড দিতেন তবে সবাই 'কেলাস' এ ঢুকতাম।
দুপুরে টিফিনে এক ছুটে দৌড়ে বাড়িতে ভাত খেতে যেতাম। ভাত খেয়ে এসেই চলত আবার খেলা।
গরমের ছুটি, পুজোর ছুটিতে ৩০-৪০ পাতা হাতের লেখা করতে হত। তখনও খালি খেলা।
স্কুলে মাঝে মাঝে ডাক্তার আসত। রব উঠে যেত ইনজেকশান দেবে। স্যারেদের চোখে ফাঁকি দিয়ে ব্যাগ/বাক্স নিয়ে তখন যে যার বাড়ি পালাতাম।
কতবার যে ছড়ির মার খেয়েছি তা মনে নেই। স্যারেদের থেকে স্নেহ পেয়েছি তার কোটিগুণ।
রোজ টিফিনে খেলার সময় পড়ে গিয়ে হাত-পা ছিঁড়ে গিয়ে গিয়ে হাঁটুগুলোয় ক্ষত হয়ে যেত। স্যার-দিদিমণিরা দেখলেই অফিস রুমে নিয়ে গিয়ে নিজেরা হাতে করে ওষুধ লাগিয়ে দিতেন। তাঁদের আন্তরিকতার কথা মনে পড়লে মনটা ভরে ওঠে।
আমরা আজীবন স্কুলের অফিস রুমের চৌকাঠের বাইরে জুতো খুলে খালি পায়ে অফিস রুমে ঢুকেছি। কেউ কোনদিন জোর করেনি 'এরম করতেই হবে!' তাও করেছি। ভালোবাসা, শ্রদ্ধায় করেছি।
এত আনন্দের ভিড়ে কখন যে স্যার-দিদিমণিরা পড়া করিয়ে নিতেন বুঝতেই পারতাম না। আজ তাঁদের আশীর্বাদে আমরা সবাই নিজের মতো করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের জীবনের ভিত গড়েছেন তাঁরাই🙏।
সরলতার দিনগুলো তখন পেয়েছিলাম বলেই হয়তো আগামী প্রজন্মকে কিছু দিয়ে যেতে পারব। আর কিছু না পারলেও বলার জন্য গল্প আছে সেটাই কম কি!
© Subhra Chakraborty

Chotobela ta jeno chokher samne chole elo. Thnx eto sundor lelhar modhha die chotobelar snriti tule dhorar r upolubdhi koranor janna.
ReplyDeletebong childhood flavour. Awesome !
ReplyDelete