'কেমন আছিস?'- এই প্রশ্নের উত্তরে 'মিথ্যা' বলি আমি। যত বয়স বাড়ছে এই মিথ্যাটা সত্যির মতো করে বলতে আরো পারদর্শী করছি নিজেকে।
কেন করছি? - নিজেকে প্রশ্ন করলে উত্তর পাই 'আরে এরমই তো বলতে হয়'! সবাইকে বলতে আছে নাকি কষ্টের কথা? লোকে জেনে যাবে, হাসবে, সমালোচনা করবে! তাই নিজের কষ্ট নিজেকেই দূর করতে হবে। তাহলে জ্ঞান দিই যে - 'আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে আর দুঃখ ভাগ করলে কমে'! আরে ওটা তো কেতাবি জ্ঞান! তার সঙ্গে বাস্তব জীবন মেলে নাকি! বাস্তবটা খুব কঠিন!
কে বাস্তবটা কে এরম কঠিন/জটিল করল? আমি- তুমি- প্রত্যেকে। অবিশ্বাস এর কারণ। আমরা পরিবার-বন্ধু-প্রতিবেশী সবাইকে অবিশ্বাস করি। আর অপরপক্ষে প্রত্যেকে প্রত্যেককে। তারা কেউ আমাদের ভালো করবে, ভালো চায় এটা আমরা মানি না যেমন ঠিক তেমনই মানি যে সব্বাই ক্ষতি করবে, খারাপ চায়, হিংসা করে। তাই নিজেকে তাদের তুলনায় একটা উচ্চ আসনে বসিয়ে 'বড়', 'ভালো', 'মহান' করি আর কাছের মানুষজনদের নানা ভাবে সুযোগ পেলেই ছোট করি, জিনিসপত্রের-জ্ঞানের শো-অফ করি, অপমান করি, বিশ্বাসঘাতকতাও করি। কারোর ভালোয় খুশী হই না। এসব করতে গিয়ে আমরা ভালো নেই। কেউ ভালো নেই। নিজের একার ভালো চাইতে গিয়ে এতটা একলা করে ফেলেছি ভিতর থেকে যে এই মূহুর্তে কোন ঈশ্বরিক/প্রাকৃতিক ভাবে আমরা প্রত্যেকে যা যা চাই সেগুলো পেয়ে গেলেই যে আমরা চিরতরে সুখী হব বা ভালো থাকব তার গ্যারেন্টি আমরা নিজেরাই দিতে পারব না।
সব সময় মিথ্যা বলতে বলতে অভিনয় করতে করতে কেমন ভুলেই গেছি আসল সত্যিটা! আসলে ভালো থাকার জন্য কিছুই করছি না। শুধু চোখ বেঁধে অন্ধকারে ছুটছি, যতক্ষণ না ধাক্কা খাচ্ছি সম্বিত ফিরবে না!
এই উপলব্ধিটা প্রকাশ করলাম, ভাগ করে নিলাম সবার সাথে। 'সত্যকে সহজ ভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা' বলতে পারেন।
© Subhra Chakraborty

No comments:
Post a Comment