ভোর ৪ টেয় ঘড়িটা রোজ ঘুম থেকে ডেকে তোলে। আজও তাই। যান্ত্রিক এই কর্তব্যপরায়ণতা দেখে বেশ লাগে। উঠে দেখি জানলার কাচের গায়ে বিন্দু জলের ভিড়। ভোর রাতে বৃষ্টি হয়েছে। জানালা খুলতেই প্রানখোলা হাওয়ায় বুক ভরে গেল। এমন সময় আমি একা জাগ্রত প্রাণী বাড়িতে। ভোরের এই নিস্তব্ধতা আমার খুব প্রিয়। এই সময়টায় মনে হয় একাকীত্ব মন্দ নয়! এরও ছন্দ আছে। বেসিনের কলের জলটা বেশ ঠান্ডা... এই শীতলতার পরশে বার বার আঙুলে লাগা উষ্ণতাকে ভেজাতে ভালো লাগে। নাঃ, এবার রেডি হয়ে বেরোনোর পালা। হাঁটতে বেরোই রোজ।
পাড়ার রাস্তা দিয়ে বেড়িয়ে বড় রাস্তা ধরে রোজ হাঁটা। এই ব্যস্ত রাস্তাটাও এই সময় শান্ত, চুপচাপ, ঘুমন্ত থাকে। দোকানের ঝাঁপগুলো বন্ধ, পাড়ার সহবাসিন্দা কুকুরগুলো ধুলোমেখে সাংসারিক ঘুমে নিমগ্ন। গ্রাম থেকে সাইকেলে হাঁড়ি বসিয়ে মাছ নিয়ে বাজারের দিকে চলন্ত জেলে, আমার মত হাঁটতে বেরোনো কিছু পথচারী ছাড়া পথ ফাঁকা। মোড়ের মাথায় স্বপনদার চায়ের দোকানটা খুব ভোরে খুলে যায় রোজ। সেখানে কয়েক জনের চা পান করে চাঙ্গা হবার ভিড়।
এক ঝাঁক কালো পায়রা রাস্তার মাঝে দুলে দুলে হাঁটছে। বকম্ বকম্ শব্দে ভোরটা ভরিয়ে রেখেছে। রাস্তায় ভিড় বাড়ছে এবার। কাগজ দেয় যে ছেলেগুলো... সব মুখচেনা... দেখা হয়... 'গুডমর্নিং দিদি' বলতে বলতে চলন্ত সাইকেল নিয়ে যায়... তারা এই ভোরে রোজ সবার বাড়ি খবর দেবার জন্য আমার ঘড়িটার মতো যান্ত্রিক কর্তব্য করে চলে... সব ঋতুতে। এদের প্রতি সম্মানে মনটা ভালোলাগায় ভরে যায়।
রেলগেটের কাছে যখন আসি তখন ৫ টা বেজে যায়। দেখি তেলেভাজার দোকানে উনুনে আঁচ দিয়েছে। আরো একটু এগিয়ে কালীমন্দিরের সামনে প্রণাম করে ঘরে ফেরার পালা।
ফেরার পথে একমুঠো পুজোর ফুল তুলি বড় পুকুরের ধার থেকে। টগর আর আকন্দ। দেখি সোনালি আভায় পুকুরের টলটলে জলে আকাশের ছবি। এই পুকুর ঘাটে এখনো কত মহিলা এই ভোরে স্নানে আসেন। তাদের হাসি-গল্পে ঘাটের সিঁড়িগুলো ডুবে থাকে।
পাড়াটা জাগছে। নতুন হওয়া ফ্যাটগুলোর কোন কোন ব্যালকনিতে লেগে থাকা সংসার দেখতে পাওয়া যায়। অচেনা মানুষ সব। সবাই জাগছে। সবার সকাল হচ্ছে। এভাবে রোজ সকাল আসুক, নতুন আলো নিয়ে... আনমনে বলি রোজ। এই শান্তির অনুভবে মানুষ হিংসা ভুলে বাঁচতে শিখুক। দিন শুরু হোক।
পাড়ার রাস্তা দিয়ে বেড়িয়ে বড় রাস্তা ধরে রোজ হাঁটা। এই ব্যস্ত রাস্তাটাও এই সময় শান্ত, চুপচাপ, ঘুমন্ত থাকে। দোকানের ঝাঁপগুলো বন্ধ, পাড়ার সহবাসিন্দা কুকুরগুলো ধুলোমেখে সাংসারিক ঘুমে নিমগ্ন। গ্রাম থেকে সাইকেলে হাঁড়ি বসিয়ে মাছ নিয়ে বাজারের দিকে চলন্ত জেলে, আমার মত হাঁটতে বেরোনো কিছু পথচারী ছাড়া পথ ফাঁকা। মোড়ের মাথায় স্বপনদার চায়ের দোকানটা খুব ভোরে খুলে যায় রোজ। সেখানে কয়েক জনের চা পান করে চাঙ্গা হবার ভিড়।
এক ঝাঁক কালো পায়রা রাস্তার মাঝে দুলে দুলে হাঁটছে। বকম্ বকম্ শব্দে ভোরটা ভরিয়ে রেখেছে। রাস্তায় ভিড় বাড়ছে এবার। কাগজ দেয় যে ছেলেগুলো... সব মুখচেনা... দেখা হয়... 'গুডমর্নিং দিদি' বলতে বলতে চলন্ত সাইকেল নিয়ে যায়... তারা এই ভোরে রোজ সবার বাড়ি খবর দেবার জন্য আমার ঘড়িটার মতো যান্ত্রিক কর্তব্য করে চলে... সব ঋতুতে। এদের প্রতি সম্মানে মনটা ভালোলাগায় ভরে যায়।
রেলগেটের কাছে যখন আসি তখন ৫ টা বেজে যায়। দেখি তেলেভাজার দোকানে উনুনে আঁচ দিয়েছে। আরো একটু এগিয়ে কালীমন্দিরের সামনে প্রণাম করে ঘরে ফেরার পালা।
ফেরার পথে একমুঠো পুজোর ফুল তুলি বড় পুকুরের ধার থেকে। টগর আর আকন্দ। দেখি সোনালি আভায় পুকুরের টলটলে জলে আকাশের ছবি। এই পুকুর ঘাটে এখনো কত মহিলা এই ভোরে স্নানে আসেন। তাদের হাসি-গল্পে ঘাটের সিঁড়িগুলো ডুবে থাকে।
পাড়াটা জাগছে। নতুন হওয়া ফ্যাটগুলোর কোন কোন ব্যালকনিতে লেগে থাকা সংসার দেখতে পাওয়া যায়। অচেনা মানুষ সব। সবাই জাগছে। সবার সকাল হচ্ছে। এভাবে রোজ সকাল আসুক, নতুন আলো নিয়ে... আনমনে বলি রোজ। এই শান্তির অনুভবে মানুষ হিংসা ভুলে বাঁচতে শিখুক। দিন শুরু হোক।

I am potrating the story in my mind! So beautifully you have express all the feelings. I must admit you are trully blessed by Almighty. Keep writing girl.. 💗💞💘 Love Love Love
ReplyDelete