সাধারণ মানুষ কামনার বশবর্তী হয়ে থাকেন। ধর্ম, অর্থ ও কাম এই ত্রিবিধ পুরুষার্থ চরিতার্থ করাতেই জীবনের সার্থকতা বলে মনে করে থাকেন। কিন্তু এমন মানুষও আছেন যাঁরা এই ত্রিবিধ পুরুষার্থে সন্তুষ্ট হন না। কারণ এই ত্রিবিধ পুরুষার্থের দ্বারা দুঃখের কবল থেকে নিবৃত্ত হওয়া যায় না। সেইজন্য মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে- এমন কি উপায় আছে যার দ্বারা দুঃখের কবল থেকে সম্পূর্ণ নিবৃত্তি লাভ সম্ভব? দুঃখের কবল থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে গেলে সংসার বন্ধন থেকে ও কর্মের প্রতি আসক্তি থেকে মুক্ত হতে হবে।
বৃহদারণ্যক উপনিষদের চতুর্থ অধ্যায়ের চতুর্থ ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে, পুরুষের হৃদয়ে যে কামনাগুলি আছে সেই কামনাগুলি যখন সমূলে বিনষ্ট হয়ে যায় তখন মরণশীল মানুষ মৃত্যুকে অতিক্রম করতে পারেন। তখন মানুষ এই দেহে ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হন। তিনি তখন আত্মাকে জেনে গেছেন বলে দেহের প্রতি তাঁর কোন আসক্তি থাকে না। যেমন সর্পের নির্মোকটি প্রাণহীন বলে সর্প তাহা সহজেই পরিত্যাগ করে থাকে, সেইরূপ ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তি সহজেই দেহাভিমান পরিত্যাগ করেন। যিনি আত্মাকে জেনেছেন তিনি মুক্তিলাভ করেছেন। কিন্তু আত্মাকে জানা সহজসাধ্য নয়। আত্মাকে জানবার পথটি অত্যন্ত দুরুহ ও সূক্ষ্ম। এই আত্মজ্ঞানমার্গ যাঁকে স্পর্শ করেছে তিনিই ব্রহ্মবিদ্যা জেনেছেন ও ব্রহ্মবিদ্যার ফলে মুক্তি পেয়েছেন।
কি উপায়ে ব্রহ্মদর্শন সম্ভব তা বলা হচ্ছে- 'মনসৈবানুদ্রষ্টব্যম্' (৪।৪।১৯) অর্থাৎ মনের দ্বারাই ব্রহ্মকে জানতে হবে। সেই মন আচার্যের উপদেশে গ্লানিমুক্ত ও পরিশুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। সেই পরিশুদ্ধ মনের দ্বারা যথার্থ জ্ঞানের স্ফূরণ হলে যখন ব্রহ্ম সাক্ষাৎ ঘটে তখন ব্রহ্ম আর জ্ঞানের বিষয় হন না, তিনি জ্ঞাতার স্বরূপ হয়ে যান। এক ও অদ্বিতীয় পরমব্রহ্ম ব্যতীত যখন দ্বিতীয় কিছুরই অস্তিত্ব নেই তখন আত্মা প্রমেয় হতে পারেন না। যা প্রমেয় তাহাই জ্ঞেয়। এইজন্য আত্মা অপ্রমেয় বলে অজ্ঞেয়। তাঁহাকে জানা যায় না, যখন দ্বিতীয় বস্তুর অস্তিত্ব নেই তখন কিসের দ্বারা কে কাকে দেখবে? 'কেন কং পশ্যেৎ'? এইরূপ প্রতিষেধমূলক শ্রুতিবাক্য থেকেই ব্রহ্মস্বরূপ অবগত হওয়া যায়। শাস্ত্রজ্ঞানের দ্বারাই দেহাদিতে আত্মজ্ঞানের নিবৃত্তি ও জীবাত্মার পরমাত্মভাবের প্রাপ্তি সম্ভব হয়। আগম বা শাস্ত্রপ্রমাণ ব্যতীতই অন্যান্য বস্তুর প্রমেয়ত্ব সিদ্ধ হয়। কিন্তু শাস্ত্রপ্রমাণ ব্যতীত ব্রহ্মের প্রমেয়ত্ব সিদ্ধ হয় না। ব্রহ্মকে যে অপ্রমেয় বলা হয়েছে তার কারণ ব্রহ্ম প্রমাণান্তরের দ্বারা সিদ্ধ নন।
অভিধান, অভিধেয়ভাবে ব্রহ্মকে প্রতিপাদন করা যাবে না এবং বাচ্যবাচক সম্বন্ধ দ্বারাও ব্রহ্মকে প্রতিপাদন করা যাবে না। আগম বা শাস্ত্র, স্বর্গের বা মেরুপ্রদেশের যে বর্ণনা করে থাকে, ব্রহ্মের সেরকম বর্ণনা করতে পারে না। কারণ ব্রহ্মতত্ত্ব বা আত্মতত্ত্ব হচ্ছে প্রতিপাদকের আত্মস্বরূপ। প্রতিপাদক ব্যতীত দ্বিতীয় বস্তু না থাকায় প্রতিপাদক কাকে প্রতিপাদন করবে? যদি প্রতিপাদক ও প্রতিপাদ্য বিষয় আলাদা হয় তাহলে প্রতিপাদন সম্ভব। কিন্তু এখানে তা এক হয়ে যাওয়ায় প্রতিপাদন করা সম্ভব হয় না।
ব্রহ্মবিষয়ক জ্ঞান বলতে আত্মা ব্যতীত অন্য বস্তুতে যে আত্মবুদ্ধি, তার নিবৃত্তি বোঝায়। সাক্ষাৎ সম্বন্ধে ব্রহ্মে আত্মভাব স্থাপন করা যায় না। কারণ আত্মভাব তো ব্রহ্মে বিদ্যমানই রয়েছে। ব্রহ্মে নিত্যই আত্মভাব থাকলেও অব্রহ্মবিষয়ে আত্মভাবের প্রতীতি হয়। অতএব অব্রহ্মবিষয়ে যে আত্মার আরোপ তার নিবৃত্তি ব্যতীত ব্রহ্মবিষয়ে আত্মভাব হতে পারে না। অব্রহ্ম অর্থাৎ দেহাদিতে আত্মভাব নিবৃত্ত হলে প্রকৃত আত্মভাবের স্ফূরণ হয়।
ধীর, অবিচলিত ব্যক্তি ব্রহ্মজিজ্ঞাসু হয়ে শাস্ত্র নির্দেশিত উপদেশ ও আচার্যের উপদেশ অনুসারে এরূপ প্রজ্ঞালাভ করবেন যার দ্বারা আত্মবিষয়ে আর কোন প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না। এই প্রজ্ঞার সাধনরূপে সন্ন্যাস, শম, দম, উপরতি, তিতিক্ষা, সমাধান, শ্রদ্ধা প্রভৃতির অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। ব্রহ্মজিজ্ঞাসু বহু শব্দের অনুধ্যান করবেন না। বহুশব্দের প্রতিষেধের দ্বারা একত্বপ্রতিপাদক অল্প শব্দের অনুধ্যান করবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর্থবর্নীয় মুণ্ডক উপনিষদেও বলা হয়েছে- 'ওঁ মিত্যেবং ধ্যায়থ আত্মানম্' অর্থাৎ 'ওঁম্' এই প্রকারেই আত্মাকে ধ্যান করবে। 'অন্যা বাচো বিমুঞ্চথ' অর্থাৎ আত্মজ্ঞানের বিরোধী কথা পরিত্যাগ করবে। ব্রহ্মের স্বরূপ অপরোক্ষরূপে উপলব্ধি করতে হলে একমাত্র ' ওঁম্' এই শব্দের দ্বারাই তাঁকে ধ্যান করতে হবে।
ব্রহ্মজিজ্ঞাসুগণ বেদাধ্যয়ন, যজ্ঞ' দান ও কামনাবর্জিত তপস্যার দ্বারা আত্মাকে জানতে ইচ্ছা করেন। সেইরূপ পরমাত্মাকে জেনে তাঁরা জীবন্মুক্ত হন।
সন্ন্যাসীগণ এইরূপ পরমাত্মাকে জানতে ইচ্ছা করে গৃহ পরিত্যাগ করে থাকেন। পুত্র, বিত্ত ও স্বর্গকামনার দ্বারা কি হবে? এইরূপ মনে করে প্রাচীন ব্রহ্মজ্ঞগণ পুত্র, বিত্ত, স্বর্গাদিলোক অবশ্যই কামনা করেন না। এইজন্য তাঁরা পুত্রকামনা, বিত্তকামনা ও স্বর্গাদিকামনা থেকে বিরত হয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।
বৃহদারণ্যক উপনিষদের শাস্ত্রপ্রধান মধুব্রাহ্মণে অমৃতলাভের উপায় স্বরূপ সন্ন্যাসপূর্বক সেই আত্মতত্ত্বই যুক্তির দ্বারা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। কারণ যাজ্ঞবল্ক্যীয় কান্ড তর্কপ্রধান। অতএব শাস্ত্র এবং তর্কের দ্বারা ইহাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে সন্ন্যাস গ্রহণ পূর্বক আত্মতত্ত্বজ্ঞানই অমৃতলাভের উপায়।
বৃহদারণ্যক উপনিষদের চতুর্থ অধ্যায়ের পঞ্চম ব্রাহ্মণে সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে যখন যাজ্ঞবল্ক্য তাঁহার অন্যতমা স্ত্রী মৈত্রেয়ীকে ধনবিভাগ করে দিতে চাইলেন, তখন মৈত্রেয়ী বলছেন- 'যেনাহং নামৃতস স্যাম্ কিমহং তেন কুর্য্যাম্'? অর্থাৎ যে ধনের দ্বারা আমি অমৃতত্ত্বলাভ করতে পারব না সেই ধনের দ্বারা আমি কি করব? মৈত্রেয়ী ছিলেন ব্রহ্মবাদিনী। তিনি স্ত্রীজনোচিতজ্ঞানযুক্তা ছিলেন না, তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ছিল প্রগাঢ়। ব্রহ্মতত্ত্বই ছিল তাঁর আলোচনার প্রধান বিষয়। কিভাবে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করা যায় তাই ছিল তাঁর একমাত্র চিন্তা। যাজ্ঞবল্ক্য বলছেন- প্রথমে আচার্যের বাক্য ও শাস্ত্রবাক্য হইতে আত্মতত্ত্ব শ্রবণ করবে, ''শ্রোতব্যঃ শ্রুতিবাক্যেভ্যঃ-'' অর্থাৎ শ্রুতিবাক্য হইতে শ্রবণ করবে। আত্মাকে দর্শণ করার পূর্বে আত্মবিষয়ক পরোক্ষ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। শ্রুতিবাক্য থেকে আত্মবিষয়ে শ্রবণের ফলেই পরোক্ষ জ্ঞান হয়। ''শ্রবণং নাম কেবলম্। উপক্রমাদিভির্লিঙ্গৈঃ শক্তিতাৎপর্যনির্ণয়ঃ''॥ (বিবরণ প্রমেয় সংগ্রহ)
নির্বিশেষ ব্রহ্ম প্রতিপাদনেই যে বেদের তাৎপর্য তা তাৎপর্য নির্ণায়ক ছয়টি লিঙ্গের দ্বারা অবগত হওয়া যায়।
''উপক্রমোপসংহারাবভ্যাসোহপূর্বতাফলম্।
অর্থবাদোপপত্তী চ লিঙ্গং তাৎপর্যনিশ্চয়ে॥'' (বৈয়াসিক ন্যায়মালা)
ছয়টি লিঙ্গ হল- (১) উপক্রম ও উপসংহার, (২) অভ্যাস, (৩) অপূর্বতা, (৪) ফল, (৫) অর্থবাদ, (৬) উৎপত্তি। উপক্রম বলতে আরম্ভ বোঝায় ও উপসংহার বলতে শেষ বোঝায়।
ছান্দোগ্য উপনিষদের ষষ্ঠ অধ্যায়ে ''সদেব সোম্যেদমগ্র আসীৎ'' ইত্যাদি বাক্যের দ্বারা আরম্ভ করে ''ঐতদাত্ম্যমিদং সর্বং তং সত্যম্'' ''স আত্মা তত্ত্বমসি'' এইরূপ বাক্যের দ্বারা উপসংহার করা হয়েছে। উপক্রমে যে কথা বলা হয়েছে, উপসংহারেও তারই পুনরুক্তি করা হয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে নির্বিশেষ ব্রহ্ম প্রতিপাদনেই উপনিষদের তাৎপর্য।
দ্বিতীয় লিঙ্গ হল অভ্যাস। অভ্যাস শব্দের অর্থ বারে বারে একই কথা বলা। যে বিষয়টি বার বার বলা হয় সেই বিষয়টির তাৎপর্য থাকে। ছান্দোগ্য উপনিষদে 'তত্ত্বমসি' কথাটি নয় বার বলা হয়েছে। এখানে তৎ ও ত্বম্ পদের দ্বারা ব্রহ্মের সঙ্গে জীবের অভিন্নতাই উপদিষ্ট হয়েছে। অতএব বহুবার একই কথা বলায় উপনিষদ যে ব্রহ্মপ্রতিপাদক তা জানা যায়।
তৃতীয় লিঙ্গ হল অপূর্বতা। যাহা অন্য প্রমাণের দ্বারা অবগত হওয়া যায় না, কিন্তু একমাত্র শাস্ত্রপ্রমাণের দ্বারাই জানা যায়, তাহাই সেই বিষয়টির অপূর্বতা- 'মানান্তরাগম্যত্বমপূর্বত্বম্' (বৈয়াসিক ন্যায়মালা)। প্রতক্ষ্য, অনুমান, উপমান, কিংবা অর্থাপত্তি এই প্রমাণগুলির কোনটির সাহায্যেই ব্রহ্মকে প্রতিপাদন করা যায় না। অতএব ব্রহ্মের স্বরূপ নিরুপণের জন্য শাস্ত্রবাক্যই প্রমাণরূপে অবলম্বনীয়। অতএব তৃতীয় লিঙ্গের দ্বারাও নির্বিশেষ ব্রহ্মই প্রতিপাদিত হয়েছে।
চতুর্থ লিঙ্গ হল ফল। প্রতিপাদ্যবিষয়টির প্রয়োজন-নির্দেশ। ''একবিজ্ঞানেন সর্ববিজ্ঞানং ফলম্''- (বৈয়াসিক ন্যায়মালা) অর্থাৎ একটি বিষয়ের জ্ঞানের দ্বারা সকল বিষয়ের জ্ঞান হওয়াকেই ফল বলে। যেমন মৃত্তিকারূপ কারণকে জানলে ঘটপটাদিরূপ কার্যকে জানা যায়, সেইরূপ আলোচ্যস্থলে এক ব্রহ্মকে জানলে জাগতিক সকল বস্তুকেই জানা যায়। শ্রুতির বক্তব্য অনুসারে, ব্রহ্মভাব প্রাপ্তিই জ্ঞানের ফল।
পঞ্চম লিঙ্গ হল অর্থবাদ। প্রশংসাসূচক বাক্যকেই অর্থবাদ বাক্য বলা হয়। যা প্রতিপাদিত হয়েছে তৎসম্বন্ধে কিছু বলার নামই অর্থবাদ। ব্রহ্মই জগতের কারণ এইরূপ বলার পরও 'ইহা হতে এই জগতের উৎপত্তি, ইহাতেই স্থিতি ও লয় হচ্ছে, ইহাতেই জীব সকল প্রবেশ করছে, ইহার শাসনেই জীবসকল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে' - এইরূপ যে সকল শ্রুতিবাক্য আছে তাকে অর্থবাদ বলা হয়। এই সকল অর্থবাদ বাক্যের দ্বারা জানা যায় নির্বিশেষ ব্রহ্মই জগতের কারণ।
ষষ্ঠ লিঙ্গ হল উপপত্তি। উপপত্তি শব্দটির অর্থ যুক্তি। দৃষ্টান্তের দ্বারা যখন দার্ষ্টান্তিককে স্থাপন করা হয় তখন ঐ দৃষ্টান্তকেই যুক্তি বলা যেতে পারে। যেমন ছান্দোগ্য উপনিষদে বলা হয়েছে- একটি মৃত্তিকাপিণ্ডের দ্বারা মৃত্তিকার পরিণামভূত ঘটাদির জ্ঞান হয় সেইরূপ বিকারস্বরূপ অনন্তবৈচিত্রযুক্ত এই জগতের কারণস্বরূপ যে নির্বিশেষ ব্রহ্ম, তিনিই একমাত্র সত্য বস্তু। এইভাবে ষষ্ঠলিঙ্গরূপ যুক্তির দ্বারা অনন্তবৈচিত্রযুক্ত জগতের মিথ্যাত্ব এবং নির্বিশেষ ব্রহ্মেরই সত্যত্ব প্রতিপাদিত হয়েছে।
যাজ্ঞবল্ক্য বলছেন- অমৃতলাভের উপায় হল বৈরাগ্য অর্থাৎ বিষয়ে অনাসক্তি। সন্ন্যাসগ্রহণ করতে হলে স্ত্রীপুত্রাদির প্রতি বৈরাগ্য উৎপন্ন করতে হবে। আত্মতত্ত্ব পুত্রের হতে প্রিয়তর, ধনসম্পদ হতে প্রিয়তর এবং সকল বস্তু হতে প্রিয়তর।
অতএব আত্মাই দ্রষ্টব্য অর্থাৎ দর্শনের যোগ্য। প্রথমে আচার্যের কাছ থেকে এবং শাস্ত্রপাঠ থেকে আত্মতত্ত্ব শুনতে হবে। পরে তর্কের সাহায্যে তা বিচার করতে হবে। 'মন্তব্যশ্চোপপত্তিভিঃ'- অর্থাৎ যুক্তিসমুহের দ্বারা শ্রুতিবাক্যের মনন করতে হবে।
''সর্ভেদান্তবাক্যানামাচার্যমুখতঃ প্রিয়াৎ।
বাক্যানুগ্রাহকন্যায়শীলনং মননং ভবেৎ''॥ (বিবরণ প্রমেয় সংগ্রহ)
অর্থাৎ প্রিয় আচার্যের মুখ থেকে বেদান্তবাক্যের ব্রহ্মবিষয়ে তাৎপর্যজ্ঞানের অনুকূল যুক্তি শ্রবণ করে সেইসকল যুক্তির পুনঃ পুনঃ যে অনুশীলন তাকেই মনন বলে।
মনন করে পরে সেই আত্মার নিরন্তর ধ্যান করাকে নিদিধ্যাসন বলে- ''মত্বা চ সততং ধ্যেয়ঃ''। ''নিদিধ্যাসন মৈকাগ্র্যং শ্রবণে মননেহপি চ''- অর্থাৎ বেদান্তবাক্যের শ্রবণে ও মননে চিত্তের যে একাগ্রতা তাই নিদিধ্যাসন। শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসনের সাহায্যেই আত্মদর্শন হয়ে থাকে॥